বৃহস্পতিবার | ৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

desh24.com.bd সত্যের সন্ধানে আমরা
       
সত্যের সন্ধানে আমরা

শখের বশে সুখের বাগান ! যেন এক টুকরো ভালোবাসা

অনলাইন ডেস্ক

শখের বশে সুখের বাগান ! যেন এক টুকরো ভালোবাসা

মেহেদী হাসান উজ্জল,ফুুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

প্রকৃতি ও গাছপালা প্রত্যেকটা মানুষকে টানে কাছে। প্রকৃতিতে সবুজের ছোঁয়া মানুষের মন বিগলিত করে দেয়।সে কারনে প্রতিটি মানুষ প্রকৃতি,গাছপালা,ফুল-ফল এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভালো বাসে। এর মধ্যে কিছু মানুষের প্রকৃতির প্রতি দূর্বলতা যেন ভিন্ন মাত্রায়

সেইসব মানুষ গুলো তাদের নিজের শখ মিটাতে বিভিন্ন জাতের গাছ লাগিয়ে তা লালন পালন করেন। আবার সেগুলোকে নিজের সন্তানের মত আদর করে,সে গাছের একটি পাতাও যদি অন্য কেউ ছিঁড়ে সেটা যেন তাকে আঘাত করে। যদি কোনো গাছের ডাল ভেংগে যায় তাহলে যেন শোক পড়ে যায় তার।এটি সত্যিই প্রকৃত একজন গাছ প্রেমী মানুষের বৈশিষ্ট্য। এমনই একজন গাছ প্রেমী ও সৌখিন মানুষ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিরীন বকুল।

তিনি উপজেলার রামভদ্রপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে,একজন সহকারী শিক্ষিকা। ফুলবাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর এলাকায় নিজ বাসার ছোট্ট একটি ছাদে তিনি প্রায় বছর দুয়েক হলো বাগান শুরু করেছেন। সরেজমিনে তার ওই ছাদ বাগানে যেতেই সবুজের সমারোহ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। এযেনো এক অন্যরকম অনুভুতি যা চোখে না দেখলে বিশ^াস হবেনা। ছাদের যেদিকে চোখ যায় শুধু গাছ আর গাছ। ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে ছাদের সাজানো বাগান। ছাদের পাশাপাশি বাড়ির চারপাশের বেলকোনেও ঝুলছে ঝুলন লতা। ফুটেছে নানান রঙের ফুল।

 

তাঁর এই বাগানে রয়েছে গোলাপ, গাঁদা, কুন্দ জুঁই, এরোমেটিক জুঁই, বেলি ফুল, সোর্ড লিলি, জল গোলাপ, ওয়াটার পপি, ব্লুডেজ, রোজ ক্যাক্টাস,দোপাটি, সাদা ও লাল হাসনা হেনা, কাঞ্চন, সোনালু,করবী,কাঁটা মেহেদী,জ্যাট্রফা,জিনিয়া,কাঠ গোলাপ,চন্দ্রপ্রভা,টেকোমা, টগর, কলাবতীসহ ১শত জাতের ফুল। লিলিয়াম, এমারিলিলাস লিলি সহ নানান জাতের লিলি,নানান রকম শোভা বর্ধন করা নানান জাতের পাতা বাহার গাছ।  পেয়ারা,আম, লাল আমলকী, মালটা,  তেঁতুল,  লিচু, আনার,  লেবুসহ ৫০টি বিভিন্ন জাতের ফল গাছ রয়েছে । এছাড়াও তিনি ছাদে বিভিন্ন জাতের সবজীও  চাষ করে থাকেন।

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে শিক্ষিকা শিরীন বকুলের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ৩০ জাতের পর্তুলিকা যা সাধারণত আমরা ঘাসফুল নামে চিনে থাকি।  এর ফুলের সৌন্দর্য চোখ ফেরাতে দেয়না,দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। শিরীন বকুল জানান,শখ পুরনের পাশাপাশী করোনার সময় ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে এই পর্তুলিকা বিক্রয় করে বেশ কিছু টাকা আয়ও করেছেন তিনি ।

 

নানান জাতের এই ফুল ফল চারা সংগ্রহের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার প্রত্যেকটা গাছ সংগ্রহের পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগ, কষ্ট আর শ্রম।  যখন যেখানেই তিনি যান সেখানেই তার পছন্দের গাছটি খোঁজেন।  কখনো বাসে, কখনো ট্রেনে করে জার্ণি করে বিভিন্ন জায়গা থেকে তিনি গাছ কিনে আনেন। এ পর্যন্ত তিনি তার বাগানে প্রায় ১ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন।

 

এছাড়া সারা বাংলাদেশে অনলাইনের মাধ্যমেও তিনি গাছ কিনে থাকেন। এক কথায় গাছ তার নিজের সন্তানের চেয়ে কমনয়। তিনি বলেন, একবার বিশেষ কাজে তিনি ঢাকা গিয়েছিলেন ৪ দিনের জন্য।  ফিরে এসে দেখে তার কিছু গাছ পানির অভাবে হলুদ হয়ে গেছে, তা দেখে তিনি অঝোরে চোখের পানি ফেলেন। তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয় যা আমাদের বেঁচে থাকার একমাত্র উপাদান। গাছের মত প্রকৃত বন্ধু আর কে আছে!

 

শিরীন বকুল জানান, শুধু তিনি তার বাসায় নন স্কুলেও একই ভাবে গাছ লাগানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।  তিনি তার নিজের বাগানে থেকে গাছ নিয়ে গিয়ে নিজে পরিশ্রম করে তার কর্মরত স্কুলেও গাছ লাগিয়েছেন। সেই বাগানে এখন ফুল ফুটেছে। তিনি বলেন স্কুল বন্ধ না থাকলে এতদিন তিনি স্কুলকেও সবুজে ঘেরা ছায়ানীড় করে তুলতেন। শিরীন বকুল জানান আল্লাহ যখন এই অভিশাপ থেকে আমাদের মুক্ত করে আবার স্কুলে ফেরত নিয়ে যাবে, তখন তিনি তার স্কুলের পরিকল্পনা কে পরিপুর্ন বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে।শিরীন বকুলের স্বপ্ন এই স্কুলের বাগান ভিজিট করতে একদিন শায়েখ সিরাজ স্যার আসবেন।

 

বাগান বিষয়ে হঠাৎ এত আগ্রহ কেন? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে ছোট বেলা থেকেই তিনি যেখানে যতটুকু জায়গা পেতেন গাছ লাগিয়ে দিতেন।তার লাগানো রংগন,পাতাবাহার ১৫ বছর যাবত তার আংগিনায় এখোনো শোভা ছড়িয়ে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন “আমি  মানুষকে গাছ বেলাতে ভালোবাসি,তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে তিনি নিজের টাকা খরচ করেও গাছ পাঠিয়েদেন। যদিও অনেকে তার মধ্যে অপরিচিত। মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বৃক্ষপ্রেম জাগাতে তিনি গাছ উপহার দিয়ে থাকেন। এজন্য তিনি প্রচুর বাঁধার সম্মুখীন হয়েছেন।এখনো গাছের কারনে অনেকে অভিযোগ করে বিভিন্ন অযুহাতে।

 

গাছের যত্ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, বিদ্যালয় যখন খোলা ছিলো তখন বিদ্যালয় থেকে বাসায় ফিরে তিনি তার বাগানে গভির রাত্রী পর্যন্ত কাজ করেছেন। এখন বিদ্যালয় বন্ধ তাই গাছের পরিচর্জায় সময় কাটান। এছাড়া কখনো প্রচন্ড তীব্র রোদে,কখনো বা বৃষ্টিতে ভীজে ৩-৪ ঘন্টা ধরে বাগানের যত্ন নেন। সবকিছু মিলে মনে হয় সে একজন বৃক্ষ মানব।  তিনি সকলের উদেশ্যে বলেন আসুন আমরা বেশি বেশি করে গাছ লাগাই, বাগান করি,ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সবুজের সমারোহে গড়ে তুলি।

 

 

Facebook Comments

Posted ১:৫০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৪ জুন ২০২০

desh24.com.bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
এম আজাদ হোসেন,  সম্পাদক ও প্রকাশক    
মো: মারুফ হোসেন, বার্তা সম্পাদক
মো: ইনামুল হাসান, নির্বাহী সম্পাদক
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় :                

শ্রীসদাস লেন,বাংলাবাজার , ঢাকা-১১০০ ফোনঃ ০১৯৭২-৪৭০৭৮১

ই-মেইল: infodesh24@gmail.com

           
Desh24 provides you latest and the most reliable Bangla news on sports, entertainment, lifestyle, politics, technology, features and cultures.